সিলেট উইটনেস প্রতিবেদনঃ কাতার বিশ্বকাপ ও এশিয়ানকাপ বাছাইয়ে গত ১৫অক্টোবর মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটি ১-১গোলে ড্র হয়। এই ম্যাচকে ঘিরে কলকাতার সল্টলেকে দুইদেশের সাপোর্টারদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চরমে।

ম্যাচ শুরু ঘন্টা তিনেক আগেই দেখা মিলেছিল সমর্থকদের এক মহড়া। বাংলাদেশের কয়েকজন সমর্থক লাল-সবুজ পতাকা হাতে স্লোগান শুরু করলেই সেখানে হাজির কয়েকজন ভারতীয় সমর্থক। ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ আর ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ স্লোগান শুরু। আইন শৃঙ্ঘলা রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মীরা দ্রুত এসে বললেন, ‘দাদা, আপনারা ভিআইপি গেট থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিন।’

সেদিন গ্যালারিতে ৫৫হাজার দর্শকের মধ্যে বাংলাদেশের সমর্থক ছিলেন হাতেগুনা হাজার খানেক। সেদিন তারা ছিলেন উদ্বিগ্ন, প্রতি মুহুর্তে ভোগেছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

সেদিন গ্যালারিতে ৫৫হাজার দর্শকের মধ্যে বাংলাদেশের সমর্থক ছিলেন হাতেগুনা হাজার খানেক। সেদিন তারা ছিলেন উদ্বিগ্ন, প্রতি মুহুর্তে ভোগেছেন নিরাপত্তাহীনতায়। সেদিনের তীক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ফেইসবুকে একটি স্যাটাস দেন শাহাদাত হোসেন জুবায়ের। তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল।



“সল্টলেকে করুণ স্মৃতি!
৫৩ হাজার দর্শকের বিপরীতে আমরা মাত্র হাতে গোনা ৩০/৪০ জন বাংলাদেশী দর্শক পুরো ৯০ মিনিট আতংক নিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে খেলা দেখেছি! কই আমাদের খবর তো কেউ নিলো না! নিবেও না। খেলা শেষে স্টেডিয়াম হতে পুলিশ প্রহরায় বের হতে হয়েছে।

বাংলাদেশ দল গোল হজম করার পর আমরা বাংলাদেশী দর্শকরা কি পরিমান আতংক নিয়ে বাকি সময় পার করেছি সেটা আমরাই জানি। তারপরও শুকরিয়া কোন অঘটন ঘটেনি। ওই দিনের খেলা আমরা ৩২০ রূপি দিয়ে টিকিট কিনে খেলা দেখেছি। স্টেডিয়ামে আমাদের যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছে কোলকাতা পুলিশ। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের সফর বা স্টেডিয়ামে ওই ধরনের বাজে পরিস্থিতির সময় আমরা বাফুফের কাউকে কাছে পাইনি। বাংলাদেশ দল গোল হজম করার পর ভারতীয় সাপোর্টাররা গ্যালারির ব্যালকনিতে টাঙানো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলতে উদ্যত হয়। তবে কোলকাতা পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা সেটি করতে পারেনি।

যাই হোক, ৫৩ হাজার দর্শকের বিপরীতে মাত্র কয়েকজন সাপোর্টার মিলে আমরা ওদের বুঝিয়ে দিয়েছি বাঙ্গালী বীরের জাতি। ভীনদেশের মাঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াটা ছিলো স্বপ্ন ও গর্বের মতো।

বাংলাদেশ দল গোল হজম করার পর ভারতীয়দের বুনো উল্লাস, আমাদের দিকে তেড়ে আসা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনা, পতাকা ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা, সব মিলিয়ে সে সময়টা খুব কঠিন ভাবে পার করেছিলাম। চোখ ছলছল করলে লজ্জায় কান্না করতে পারিনি কারন ভারতীয়রা তখন আরও মজা নিতো।

যাই হোক দারুন একটি সফর ছিলো কোলকাতায়। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন মনে থাকবে। এতটুকু শান্তনা অন্তত পাবো ৫৩ হাজারের বিপরীতে আমরা ওদের ছেড়ে কথা বলিনি। হয়তো ভাগ্য সহায় ছিলো না।”