নিউজ ডেস্কঃ সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া লন্ডন ফেরত নারীর শরীরে নভেল করোনাভাইরাসে ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মারা যাওয়া প্রবাসী নারীর নমুনার কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে দেশে ফেরা ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে শাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। নভেল করোনাভাইরাসের মত উপসর্গ থাকায় তাকে রাখা হয় আইসোলেশনে।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে মারা যান ৬১ বছর বয়সী ওই নারী। পরে আইইডিসিআরের প্রতিনিধিরা গিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যান পরীক্ষার জন্য।
সংক্রমণের বিষয়ে তখন নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী সংক্রমণ রোগে মৃত্যুর সৎকার বিধি অনুযায়ী নগরীর মানিকপীর কবরস্থানে দাফন করা হয় ওই নারীকে।
লন্ডনফেরত ওই নারীর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায়। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের সবাইকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায় জেলা প্রশাসন।
এদিকে,
মৌলভীবাজারেও পৌর এলাকার যুক্তরাজ্য ফেরত মৃত নারী (৬৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিসসহ অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
জেলার সিভিল সার্জন তওহীদ আহমদ জানান, ‘নাগরিকদের কাছ থেকে খবর পেয়েছিলাম যে ওই নারী সম্ভবত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা অনেক কাগজপত্র বের করলাম। ভিসা, চিকিৎসার কাগজপত্র ও ওষুধ দেখলাম। তার আত্মীয়–স্বজনসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বললাম। সব তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন, এমন কোনো কারণ পাইনি। তিনি দেশে এসেছেন আড়াই মাস আগে। কোয়ারেন্টিনের সময়ও শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই মাস আগে ওই নারী যুক্তরাজ্য থেকে স্বামীসহ দেশে আসেন। গত রোববার দুপুরে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হন। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন মৃতদেহ নিয়ে বাসায় চলে আসেন। গত সোমবার তিনটার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একটি এলাকায় তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রচলিত নিয়মে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু ওই নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, এরকম খবর পেয়ে গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে ওই নারীর বাসায় সিভিল সার্জন, জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশের সদস্যরা যান। এসময় এলাকার পাঁচটি বাসাকে কোয়ারেন্টিন ঘোষণা করে দেয়ালে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়।
কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ওই নারীর আশপাশের বাসায় কয়েকজন প্রবাসী আছেন। তাদের করোনার লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ কারণে পাঁচটি বাসার লোকজন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।














