স্পেন ও মরক্কো সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে ইউরোপে প্রবেশের পথ আরও কঠিন হলো। অবৈধ প্রবেশ রুখতে দুই দেশের মধ্যে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গত ২৮ নভেম্বর স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ও মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রী নাসের বৌরীটা এক যৌথ স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল বিষয়, মরক্কো হয়ে অবৈধপথে ইউরোপে প্রবেশকারী অভিবাসীদের পথ বন্ধ করে দেয়া।
এই চুক্তির ফলে এখন থেকে প্রতিবেশী দুই মহাদেশের এই দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা যৌথ পেট্রোল ডিউটির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে আফ্রিকা, এশিয়া হতে স্বপ্নের ইউরোপের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিতে একসঙ্গে কাজ করবে।মরক্কোর ওপর অনেক আগে থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ ছিল, তাদের সীমান্ত পথ কঠোর করার জন্য। মরক্কো সবসময় প্রস্তাবে রাজি থাকলে সঠিকভাবে সীমান্ত পাহারা দিতে খরচ অনেক বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই সমস্যা দূর করতে মরক্কো ও স্পেন সীমান্তে পেট্রোলিং বৃদ্ধির জন্য ৩৫ মিলিয় ইউরো বা ৩৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।উল্লেখ্য, মরক্কো হতে স্পেনের সীমান্ত দূরত্ব মাত্র সাড়ে ১৪ কিলোমিটার। জিব্রাল্টা প্রণালী দিয়ে সহজেই মরক্কো হয়ে স্পেনে প্রবেশ করা যায়। মিশর, লিবিয়া, মধ্য আফ্রিকা, সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আসতে হয় মরক্কো।
সেই বিপদ সংকূলন পথ সাহস ও শক্তির মাধ্যমে অভিবাসীরা পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যায় স্বপ্নের পশ্চিম ইউরোপে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এপথে পাড়ি দিতে গিয়ে ৬৪টি দেশের প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের সলিল সমাধি হয়েছে ভূমধ্যসাগরে ডুবে।এই চুক্তির ফলে মধ্য আফ্রিকা বা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগাল অথবা পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া হতে মরক্কো হয়ে অবৈধপথে ইউরোপে পৌঁছনো আরও কঠিন হয়ে গেল।














