নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটের শহরতলী টুকেরবাজারে আগুন লেগে অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লেপ-তোষকের একটি দোকান থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

আগুন লাগার খবর শুনেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহিদ আহমেদ, ৮নং কান্দিগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন, সদর বিএনপির আহবায়ক একেএম তারেক কালাম, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, টুকের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নেওয়াজ উদ্দিন, সদর আওয়ামীলীগের ত্রান সম্পাদক ফজলুল করিম ফুল মিয়া, সাবেক উপ সম্পাদক নুরুল হক, টুকের বাজার নয়গ্রাম সমাজ কল্যান যুব পরিষদের সভাপতি আব্দুস সালাম, সেক্রেটারি মোঃ এনাম হোসেন প্রমূখ।

জানা যায়, প্রথমে যে দোকানটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে, সেটি ছিল লেপ তোষকের  দোকান। সেই দোকানে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র থেকেই আগুন ভয়াবহ রুপ নেয়।

আগুন আগুন চিৎকার শোনে বাজারে থাকা সব মানুষ এসে জড়ো হন আর দেখেন ভেতর থেকে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতেছে। এসময় উপস্থিত থাকা সবাই যার যার সাধ্যমত চারদিকে যে পানি ছিল তাই দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস আসে। ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগুন মূলত  কারেন্টের তার বা শর্টসার্কিট থেকে লেগেছে, তারপর আগুন চারিদিকে ছড়ায়। যার কারনে আশেপাশে থাকা ইউনানি ফার্মেসী, মদিনা বীজঘর, ওয়াইফাই অফিস, চাউলের গোডাউন সহ অনেক দোকান পুড়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিলেট উইটনেস কে বলেন, আগুন কোথায় থেকে লেগেছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে এতে কারেন্টের সংস্পর্শ ছিল। যে কারণে আগুনের তীব্রতা ছিল ভয়ানক। তবে তদন্ত করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে তারা জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মকর্তা হুমায়ূন কার্নাইন জানান, সিলেট ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের মোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। প্রায় ঘন্টা খানেকের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছে জানিয়ে তিনি জানান, আগুনে সাতটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।