নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজিব আহমেদ দেশের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন বলাউড়া গ্রাম। জানা যায় রাজিব বছর চারেক আগে জীবিকার তাগিদে কাজের ভিসায় মালেশিয়ায় পাড়ি জমান। সংগতকারনে বৈধ কাগজ নবায়নে জটিলতা দেখা দিলে পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক “রি-হায়ারিং” প্রোগ্রাম শুরু হলে রাজিব “Foyez Cleaning Service” নামক একটি কোম্পানীতে বৈধ কাগজ পাওয়ার লক্ষ্যে নিবন্ধন করেন। ভিসার সকল খরচ যথারীতি কোম্পানিকে পরিশোধ করেন। উল্লেখ্য,কোম্পানির তেমন কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ভিসা করে দিলেও কাজের ব্যাপারে কোন প্রতিশ্রুতি দিতে না পেরে কোম্পানির কর্ণধার ফয়েজ উদ্দিন ভিসা থাকাকালীন সময়ে যে কোন ধরনের আইনী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে উন্মুক্ত কাজ করার তাগিদ দেন।

এদিকে করোনায় মালয়েশিয়ার লকডাউনকালীন সময়ে প্রায় চার মাস বেকার থাকার পর রাজিব জীবিকার তাগিদে ১ দিনের জন্য পার্ট টাইম কাজে কুয়ালালামপুর বাংসারের একটি রেস্টুরেন্টে যান। বিধি বাম অইদিনই পুলিশের অপারেসির শিকার হোন রাজিবসহ আরোও ৪ জন তন্মধ্যে ১ জন ছাড়া সবাই ভিসা ধারী। এমতাবস্থায় রাজিবের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষ ফয়েজ উদ্দিন বিষয়টি অবগত করেন কিন্তু তৎক্ষণাৎ উনার পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় নি। সপ্তাহ দুই’য়েক পড়ে রাজিবের সাথে ধৃত বাকি ভিসা ধারীরা মুক্ত হলেও রাজিব আটকে যান পুলিশের জালে।এর হেতু জানতে চাইলে পুলিশ জানায় রাজিবের ভিসা রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে না, পাসপোর্টে সংবলিত ভিসাকে ভূয়া বলে সম্বোধন করে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্যের বিষয়টি কোম্পানির মালিক ফয়েজ উদ্দিন জানালে উনি ভূয়া ভিসার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং জোর দিয়ে বলেন ভিসা বৈধ। তখন পুলিশের বক্তব্যকে অফিসিয়ালি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ফয়েজ উদ্দিন অনুরোধ জানালে বিষয়টি তিনি রহস্যজনক ভাবে এড়িয়ে যান।এতে ভিসার বৈধতা নিয়ে সন্দেহ আরোও ঘনীভুত হয়। বলাবাহুল্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা রাজিব আহমেদ বহুদিন ধরে লিভারের রোগে ভুগছেন।

এমতাবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে রাজিবের ঘনিষ্ঠ যথাক্রমে, আতিকুর রহমান বেলাল, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, লায়েক মিয়া ,পাবেল আহমদ, জোবায়ের আহমদ সহ প্রমুখ দূতাবাসের সমীপে অভিযোগ দায়ের করেন, প্রায় মাস হয়ে গেলেও বিষয়টির কোন অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। ইতিমধ্যেই কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব সোনাহর খান রশীদ, জনাব নুর মিয়া, এনামুল আহমেদ প্রমুখ ফয়েজ উদ্দিন রাজিবকে ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারে অনুরোধ করলে উনি রাজিবের কেইস’কে কির্জা সালাহ (ভিসার সাথে সামঞ্জস্যহীন কাজ) আখ্যায়িত করেন এবং যে কোন ধরনের সহযোগিতার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন।

এই বার্তার প্রতিবেদক সমুদয় বিষয়ের সত্যতা জানতে ফয়েজ উদ্দিন সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে, উনি ভূয়া ভিসার অভিযোগটি দৃঢ়চিত্তে প্রত্যাখান করেন। ভিসা যদি বৈধ হয় তাহলে আপনি কেনো তাকে জেল থেকে বের করে আনছেন না? উত্তরে ফয়েজ আহমেদ বলেন মামলাটি কির্জা সালাহ এতে তিনি সহযোগিতা করতে পারবেন না, তবে পুলিশের অভিযোগ ভূয়া ভিসা (No Passport), এতে উনাকে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় পুলিশের বক্তব্য আর আপনার বক্তব্য ভিন্ন কেনো! কির্জা সালাহ কাকে বলে এবং রাজিবের পারমিট কোন সেক্টরের? এতে উনি বেশ ইতস্তত বোধ করে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান যা অপারগতা বলে বিবেচ্য।বলাবাহুল্য, রাজিবের ভিসা আর কাজ একই সেক্টরের আওতাধীন সুতরাং এখানে কির্জা সালাহর সুযোগ নেই এবং পুলিশও এমন বক্তব্য কখনোও দেয় নি।

এছাড়াও প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরোও কিছু তথ্য বেড়িয়ে আসে। জয়নাল আবেদিন নামে একজন ভুক্তভোগী জানান ফয়েজ উদ্দিনের কোম্পানির অধীনে ভিসা থাকার পরেও প্রায় ৩ মাস জেল কেটে উনাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল।তিনি আরোও বলেন ফয়েজ উদ্দিন রহস্যজনকভাবে তাকে জেল থেকে বের করার কোন ধরনের আইনী তৎপরতায় না গিয়ে বরং তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনে তৎপরতা চালান।এতে ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদিন উনার ঘনিষ্ঠ মানুষ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ, শেখ সাকির আহমদ, এনামুল হক গং এই বিষয়ে অবগত আছেন বলে আমাদের জানান। তিনি আরোও বলেন ফয়েজ উদ্দিন কোন দৃশ্যমান ব্যবসা নেই সাইনবোর্ড সংবলিত কোম্পানি খোলে ভিসার দালালী করেন এবং ভিসা নবায়নের জন্য অন্যান্য কোম্পানি যেখানে ৩০০০-৩৫০০ রিংগিত নেয় সেখানে তিনি মাত্রাতিরিক্ত চার্জ করে থাকেন প্রায়৪০০০ -৪৫০০ রিংগিত হাতিয়ে নেন।
আমাদের অনুসন্ধানে আরোও স্পর্শকাতর বিষয় বেড়িয়ে আসে যা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নাম বলতে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান ফয়েজ উদ্দিন ভূয়া কাগজ বানিয়ে বিভিন্ন হোটেলের হাউসকিপিং কাজে কম বেতনে লোক সাপ্লাই দিয়ে থাকেন।এই দৃষ্টি কোণ থেকে রাজিবের স্বজনেরা সহযোগিতা না পাওয়ায় ফয়েজ উদ্দিন রহস্যজনক আচরণকে সন্দেহের চোখে দেখছেন! ভূয়া ভিসা প্রদান করে উনি প্রতারিত করতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ ক্রমশই ঘনীভুত হচ্ছে।

রাজিবের পিতা জনাব আব্দুস সোবহান প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক উনার ছেলের সাথে ঘটিত এহেন প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং উনার অসুস্থ ছেলের জেল থেকে মুক্তির ব্যপারে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতার আরজ করেন।