নিউজ ডেস্কঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের আশেপাশের দোকানপাটগুলোতে পুলিশ প্রশাসনের অতিরিক্ত কড়াকড়িতে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তার অজুহাতে রাত এগারোটার মধ্যে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ। এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে উঠেছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সেভাবে আবাসন সুবিধা না থাকায় দশহাজার শিক্ষার্থীর ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন। এর মধ্যে একটি বিরাট অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা, যুগিপাড়া, নয়াবাজার, পার্শ্ববর্তী তপোবন আবাসিক এলাকা ও সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে অবস্থিত নিউ গোলাপী রেস্টুরেন্ট, জাকারিয়া রেস্টুরেন্ট, সাতকরা, মেজবান ও বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্টে মূলত শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে থাকে। এরমধ্যে সাতকরা সারারাত খোলা থাকলেও বাকি রেস্টুরেন্টগুলো রাত একটা নাগাদ বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত সপ্তাহ থেকে এই রেস্টুরেন্টগুলোকে রাত এগারোটার মাঝে বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট মালিকরা পুলিশের হয়রানির ভয়ে বাধ্য হচ্ছেন রেস্টুরেন্ট বন্ধ করতে। এর ফলে কয়েকহাজার শিক্ষার্থী যারা টিউশন করিয়ে থাকেন তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আবাসিক হলের শিক্ষার্থী সাফকাত বলেন, আমাদের পরিক্ষা সময়ে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরন প্রয়োজন হয়। এতো তাড়িতাড়ি দোকানপাট গুলো বন্ধের ফলে আমাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এতে আমাদের ফলাফল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে।
প্রধান ফটকের পাশ্ববর্তী একটি আবাসিক মেসের বাসিন্দা শাবি শিক্ষার্থী তানভীন হোসেন বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কখন ঘুমাবে কিংবা কখন কি খাবে সেটার বিধিনিষেধের দায়িত্ব পুলিশের হতে পারে না। আমরা আমাদের বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। পুলিশের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওকিল উদ্দিন বলেন, সাড়ে ১১ টার পর গেইটে আর কোনো দোকান খোলার যৌক্তিকতা নেই। তবে অনেকেই টিউশনি শেষ করে এ সময়টাতে খাওয়া দাওয়া করে বিষয়টি আনলে তিনি একই কথা আবার বলেন। তিনি বলেন, এখন থেকে এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মানায় নিতে হবে। এসময় তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি দায়িত্ব নিতে পারলে আমরা এই নিয়ম উঠিয়ে নিবো।’
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পুলিশকে দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি প্রক্টরের সাথে কথা বলতে বলেন। তবে প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।













