বর্তমান সময়ের বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিদ মিচিও কাকু,স্ট্রিং তত্ত্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজ্ঞান ও মানবতা নিয়ে তিনি প্রায়ই ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন । তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে তিনি এ পর্যন্ত বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রায় ৩০০বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং অনেকের গবেষণাগারে প্রবেশ করে তাদের চলমান গবেষণা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন ।
২০১৮ সালের শেষের দিকে ওশেনিয়া সফরের সময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন,অন্য কোন গ্রহে বসতি স্থাপনের আগে পৃথিবীতে আমাদের জন্য তিনটি বড় ধরনের হুমকি কি কি হতে পারে?
তিনি উত্তরে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছিলেন,
*Global Warming (বৈশ্বিক উষ্ণতা)
*Germ Warfare (জীবাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা)
- Nuclear Proliferation (পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার)
Germ Warfare বা জীবাণু অস্ত্র নিয়ে তিনি বলেছিলেন,যদি কোন কারণে অসতর্কতাবশত ল্যাবরেটরি থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে তাহলে মানবজাতির জন্য তা হবে ভয়াবহ।
আজ চিন তথা সারা পৃথিবীর আতঙ্ক করোনা ভাইরাস । ধারণা করা হচ্ছে চিনের উহান শহরের বন্যপ্রাণী ক্রয় বিক্রয়ের একটি বাজার থেকে ভাইরাস টি ছড়িয়েছে । তবে কয়েকটি অসমর্থিত সূত্র বলছে ভিন্ন কথা । সূত্রটি বলছে উহান শহরের কোন এক জীবাণু অস্ত্র তৈরির পরীক্ষাগার থেকে ভাইরাসটি অসতর্কতাবশত ছড়িয়েছে ।
এখন পর্যন্ত যেহেতু পৃথিবীর উহান শহরের বাইরে অন্য কোথাও এ ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়নি তাই ধারণাটি উড়িয়ে দেয়া যায় না ।
যদি ধারণাটি সত্য নাও হয়,তবুও এই ভাইরাস আমাদের অনাগত জীবাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে । বিশেষ করে এই চিন রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন নৈতিকতা লালন করেনা যার প্রমাণ ভুরিভুরি আছে । যেমন বায়োটেকনোলজি ও জিনপ্রকৌশল নিয়ে অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষা মানবতা ও নৈতিকতাবর্জিত হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে তা নিষিদ্ধ হলেও চিনে এর বৈধতা দেয়া আছে । তাই ধারণা করা হয় চিন,উত্তর কোরিয়াসহ অনেক দেশ ইতোমধ্যে এ অস্ত্র তৈরি করে থাকতে পারে । যদি অদূর ভবিষ্যতে কোন যূদ্ধে এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয় কিংবা কোনভাবে পরীক্ষাগার থেকে লিক করে তাহলে কি ঘটতে পারে ভেবেই গা শিউরে উঠছে।
মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে মিচিও কাকুর সতর্কবার্তা বাস্তবে ফলে যেতে দেখে সত্যিই অবাক হচ্ছি।
জানিনা করোনা ভাইরাস আমাদের ভাগ্যে কি পরিণাম বয়ে নিয়ে আসছে,তবে বিশ্ব নেতৃত্বকে এখনই জীবাণু অস্ত্র নিয়ে নড়েচড়ে বসা কি উচিত নয় ?
মনে রাখতে হবে ভাইরাস মানবকোষ এ প্রবেশের আগে নির্জীব থাকে কিন্তু একবার প্রবেশ করতে পারলেই লীলাখেলা শুরু করে । কোষে প্রবেশের পর বাহকের ডিএনএ এর সিকোয়েন্স হাইজ্যাক করার সময় তার ভাবার সময় নেই কে বাঙ্গালী, চাইনিজ কিংবা মার্কিনী । জীবাণুরা তাদের স্রষ্টা কে চিনে না,সে শুধু চিনে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের উপযোগী মানবকোষ । সুতরাং সাধু সাবধান ! নগর পুড়িলে দেবালয় কখনো রক্ষা পায় না।
বিশ্ব নেতৃত্বের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
সাইফুল ইসলাম
প্রভাষক,রসায়ন বিভাগ,কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।














