ড. মোহাম্মাদ নাজমুল হক
আসসালামু আলাইকুম।
সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা,
মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান মহামারীর বাস্তবতা সামনে রেখে এবারের ঈদ আমরা কিভাবে উদযাপন করবো, তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে! রামাদান আসার পূর্বেও একই প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছিলো, এবারের রামাদান কিভাবে উদযাপন করবো? বাস্তবতার আলোকে সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা পেয়ে গেছি এবং সেই মোতাবেক ইতিমধ্যে আমাদের রামাদানের রোযা এবং তারাবিহ এর সালাত আদায় করেছি।
ঠিক তেমনি ভাবে ঈদের বেলায় সেই প্রশ্ন গুলোই আমাদের সামনে পুনরায় আসছে। সময়োপযোগী এই প্রশ্নগুলোর চমৎকার সমাধান বাস্তবতার আলোকে আমাদের ওলামায়ে ইকরামগন দিয়েছেন।
আমরা যদিও ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহ অথবা মসজিদে যেতে পারবো না কিন্তু ঈদের সময়ের আমাদের রাসূল (সা) এর সুন্নাতসমুহ পরিপুর্ন ভাবে পালন করে আমরা আমাদের ঈদ মহিমান্বিত করতে পারি। যেমনঃ
১. ঈদের আগের রাত থেকে ঈদের তাকবির পড়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বড়ত্বের কথা স্বরন করতে পারি। আল্লাহ তায়ালার বানী
وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ
‘এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর’। [ সুরা বাকারা ২:১৮৫ ]
আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকে তাকবীর ছড়িয়ে দিব ইন শা আল্লাহ।
তাকবির হচ্ছে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ
২. সেই সাথে ঈদের দিন স্বপরিবারে ফজরের সালাত আদায় করে উৎসবমুখর দিনটি শুরু করতে পারি।
৩. সকালে গোসল করে, মিসওয়াক করে, নতুন জামা পরিধান করে আতর লাগিয়ে কয়েকটি বেজোড় খেজুর খেতে পারি। তারপরে যদিও আমরা মসজিদে আসতে পারবো না কিন্তু তাকবীর পড়তে থাকবো।
৪. তাছাড়া পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধবের সাথে ফোনের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি।খোজ খবর নিতে পারি। এ ক্ষেত্রে তাকব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম, ঈদ মোবারাক বলতে পারি অথবা এরাবিকে কুল্লু আম ওয়া আন্তুম বিখাইর বলতে পারি।
৫. এখন, যে জায়গায় ইদের নামায হয় না, সে জায়গায় মানুষের কি করে ঈদের সালাত আদায় করে থাকে এবং যার ঈদের নামায মিস হয়ে গেছে তিনি কিভাবে নামায আদায় করবেন এ ব্যপারে আমরা মাসায়ালাটি অনুধাবন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
👉🏼 ঈদুল ফিতরের নামায যদি কারো মিস হয়ে যায় হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তা আদায় করার আর সুযোগ নাই, কিন্তু অন্য মাযহাব এর ফুকাহা গন ঈদের নামায অতিরিক্ত তাকবীর সহ পড়ার মত ব্যাক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে একটি হাদিসের উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যায়।
সহীহ বুখারীর হাদিস যে আনাস (রাঃ) ঈদের সালাত জামায়াতে না পাওয়ার পর তিনি ঘরে এসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে -এমনকি দাস-দাসীদেরকে একত্রিত করে তাকবীর দিয়ে ঈদের জামায়াত করছেন। তবে, সেখানে তিনি ঈদের খুতবা দেন নি।
কোন এক সময়ে আনাস (রা) এর দাস আব্দুল্লাহ বিন আবি উতবাহ দুই রাকায়াত ঈদের সালাতের ইমামতি করেছেন। (দেখুনঃ এরওয়াউল গালীল, আলবানী ৩/১২০), বুখারী হাদীস নং ৯৮৭ এর আগে, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা (হাদীস নং ৫৮০৩), সুনানে বায়হাকী (৬২৩৭)
👉🏼 এই হাদীস বা সাহাবার আমলের ওপর ভিত্তি করে অনেক ইমাম যেমন মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাজহাবের মতামত হল ঘরে ঈদের সালাত আদায় করা যাবে।
(দেখুনঃ মুখতাসারুল ঊম্ম- মুয়ানী ৮/১২৫, শারহুল খারশী ২/১০৪)।
তাহলে কেউ যদি নামায না পায় অথবা এই সময়ে আমরা যদি মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে না পারি তাহলে যেহেতু আমরা শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী এ দেশে অবস্থান করছি সে মাহযাব অনুসরণ করে ঘরেই আমরা ২ রাকাত নামায অতিরিক্ত তাকবীর সহ আদায় করতে পারি।
👉🏼 হানাফী মাজহাবে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ঈদের সালাত না আদায় করতে পারে, তাহলে সে আলাদা ভাবে ঈদের নামাজ আদায় না করে ২/৪ রাকাত নফল নামায পড়তে পারেন। (দেখুন আদ-দুররুল মোখতার ২/১৭৫)
এক্ষেত্রে যে কোন একটি মত গ্রহন করবো এবং তা আদায় করতে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
👉🏼 সাউদী স্থায়ী ফতোয়া কমিটি মতামত ব্যাক্ত করেছেন (৮/৩০৬) যে, যদি কেউ ঈদের সালাতের জামায়াত না পায়, তিনি ঘরে বা অন্য কোথাও আবার আলাদা জামায়াত করতে পারবেন ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর সহ।
কিন্তু এখানে সালাতের পর ঈদের খুৎবা দিবেন না। এই সালাতের জন্যে ইক্বামত দিতে হবে না এবং ক্বিরাত জোরে পড়বেন।
👉🏼 মিশরের গ্রান্ড মুফতিও ফতোয়া দিয়েছেন যে এই বছরের কোভিড-১৯ এর কারণে পরিবারের সদস্যরা নিজেরা ঘরেই ঈদের সালাতের জামায়াত করতে পারবেন। কারণ এর পক্ষে সাহাবীদের আমল পাওয়া যায়।
(দেখুনঃ https://www.albayan.ae/editors-choice/varity/2020-05-15-1.3859100 )
আমরা তাহলে কোনটা আমল করতে পারি?
তবে, যেহেতু আনাস (রাঃ) নিজেই বাসায় পরিবারের লোকদেরকে নিয়ে ঈদের সালাত করেছেন বলে সহীহ হাদীসে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাই আমরাও সে অনুযায়ী আমল করতে পারি।
আমরা যেহেতু মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছি এবং তারা শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী সব কিছু পরিচালনা করেন সে অনুযায়ী আমরা তাদের কে সম্মান দেখিয়ে তাদের সাথে একই ভাবে পড়তে পারি।
আল্লাহু আ’লাম
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।
পুনশ্চঃ নিচের লিংক গুলিতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত সমসাময়িক শায়েখদের আলোচনা পড়তে ও দেখতে পারেন।
https://www.albayan.ae/editors-choice/varity/2020-05-15-1.3859100 )*
শায়েখ আবুল কালাম আযাদ UK
https://www.facebook.com/groups
/Ilalislamiminzadid/permalink/570801110522219/
শায়েখ ড. মাহমুদুল হাসান UK
https://www.facebook.com/2024975917829586/posts/2611370375856801/
শায়েখ আহমাদুল্লাহ, বাংলাদেশ
https://youtu.be/wL9wSYHJHF4














