প্রেস রিলিজ:
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সবসময় নাগরিকদের চরম শিক্ষায় শিক্ষিত করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা শিখিয়েছে ভোট ছাড়াও দেশে সরকার নির্বাচিত হতে পারে। এখন তারা আমাদের শিখাচ্ছে পেয়াজ ছাড়াও মাছ, মাংস-তরকারী খাওয়া যায়। দেশ-জাতি বিনাশী এই শিক্ষা ও দূ:শাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে নূন্যতম শর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজ জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ, সিলেট আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে উপরোক্ত কথা বলেন জন আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু।
জন আকাঙ্ক্ষা সিলেটের সমন্বয়ক জনাব ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ- জাতীয় ঐক্যের মূলনীতি” শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি এডভোকেট তাজুল ইসলাম, মতামত ও প্রশ্ন উত্তর সেশনে অংশ নেন উদ্যোগের কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমূল হুদা অপু, যুব সমন্বয়ক সাজ্জাদ হোসেন, এডভোকেট হোসাইনুর রহমান লায়েস, প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট নজরুল ইসলাম,
যুবনেতা তানজিল নাফি, সাংবাদিক এনামুল হক, সমাজ কর্মী শ্রী জয়া দাশ, একচ্যুয়ারিস্ট ইমরান লস্কর, মিডিয়া কর্মী নাসির উদ্দিন, শাবিপ্রবি’র ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রিপন মাহমুদ, ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম ও মাওলানা নূরুল ইসলাম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াৎ ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মন্জু আরও বলেন, আমরা যদি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা, দেশ ও ধর্ম নিয়ে কোন বিভেদ বিতর্কে লিপ্ত না হবার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারি তাহলেই কেবল জাতীয় ঐক্য সম্ভব।
বিগত দিনে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শ্লোগান তুলে রাজনীতি করেছেন, তাদের হাতেই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সবচাইতে বেশী পদদলিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম মানুষকে ন্যায়বান ও মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়। আমরা সবাই দাবী করি বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাহলে কেন আমাদের দেশের প্রতি পদে পদে দুর্নীতি ও অন্যায়? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরারের মত ছেলে বর্বরোচিত কায়দায় খুন হয় আর মাদ্রাসায় নুসরাতের মত মেয়েরা পুড়ে মরে? গলদ টা কোথায়? সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যদি রাজনীতি কে শুদ্ধ করার পদক্ষেপ না নিয়ে ঘরের দরজা আটকে বসে থাকি তাহলে সাগর-রুনির মত বেডরুম ও আমাদের জন্য নিরাপদ থাকবেনা।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন সুশাসন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও জুলুম শোষন থেকে মুক্তির জন্য যুগে যুগে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেবেন তাঁরাই আমাদের নেতা। তারা আমাদের অনুপ্রেরণা। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সেলিব্রেটি নেতা জাতি উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। দাস প্রথা থেকে মুক্তি, নারীর মর্যাদা রক্ষা, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জনমূখী নেতার অভ্যুদয় ঘটে। জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ জাতির জন্য সে রকম নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চায়।
প্রধান বক্তা এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, জন আকাঙ্ক্ষা জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ, অধিকার ভিত্তিক রাজনীতি ও কল্যান ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করবে। তিনি বলেন জাতির দূ:সময়ে তরুণদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। তাই আমরা এই চ্যালেঞ্জিং কাজে হাত দিয়েছি।
সংলাপে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অংশ নেন।














