নিউজ ডেস্কঃ সারা বাংলাদেশের জেলখানাগুলোতে থাকা কয়েদীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে রীতিমত ভয়াবহ তথ্য সামনে নিয়ে এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। প্রথমত, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৮ টি জেল কারাগার আছে যেখানে বন্দি ধারণক্ষমতা হলো ৩৬ হাজার কিন্তু সেখানে বর্তমানে বন্দী রয়েছে ৯৫ হাজারের মত। দ্বিতীয়ত, এই বন্দীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার অবস্থা রীতিমত ভয়াবহ।
বাংলাদেশে জেলখানায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন পদে ১৪১জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও সেখানে আছেন মাত্র ৯ জন। তার মানে দাঁড়ালো প্রায় ৯০ থেকে ৯৬ হাজার বন্দী কয়েদীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য মাত্র ৯ জন ডাক্তার। এটা রীতিমত ভয়াবহ একটি তথ্য। একজনের পক্ষে কি আদৌ সম্ভব ১০হাজারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। জেলখানায় অবহেলার কারণে প্রায়ই মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ব্যারিস্টার সুমন বেশকিছুদিন আগে জেলখানায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া পলাশ কুমার রায় নামের এক আইনজীবীর পক্ষে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতে মামলা করেন। গত ২৬ মার্চ মানহানির একটি মামলায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারে পাঠানো হয় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে। এক মাস পর ২৬ এপ্রিল কারা হাসপাতালের বাথরুমে অগ্নিদগ্ধ হন ওই আইনজীবী। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ এপ্রিল দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ব্যারিস্টার সুমন। সে মামলায় আদালতের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অবহেলা পেয়ে আইজি প্রিজনকে আদালতের দেওয়া একটি নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেই নোটিশের জবাবে জেলখানার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এইসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টর সুমন তার লাইভে এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা যে কোন ঘটনায় কারো মৃত্যুর পর প্রতিবাদে সোচ্চার হই কিন্তু মৃত্যুর আগে সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করি না। জেল হাজতে এই আসামীদের চিকিৎসার অধিকারের ব্যাপারে আমাদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত এবং কারোর মৃত্যুর পরে নয় বরং বেঁচে থাকা অবস্থায়ই মানুষের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে সকলের ভূমিকা রাখা উচিত’।
সূত্রঃ পাবলিক ভয়েস














