জিয়াউল হক জিয়া (ক্রিড়া প্রতিবেদক):: সিলেট জেলার প্রয়াত ফুটবলারদের স্মরণে ‘সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি’ দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করেছে ‘কুটিম-জুয়েল স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। মাহা’র পৃষ্ঠপোষকতায় এই টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লুৎফুর রহমান লালু একাদশ।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় শুরু হওয়া ফাইনাল ম্যাচ ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ। পাল্টাপাল্টি আক্রমণ হলেও গোল বঞ্চিত থাকে দুই দল। তবে দুইবার ভাল সুযোগ পেয়েছিল লালু একাদশ। শেষ অবধি গোলহীন ম্যাচটি নিস্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।
দুই দলের নেয়া প্রথম কিক দুটি রুখে দেন দুই গোল কিপার। দলের দ্বিতীয় কিক থেকে গোল পায় দুই দল। তৃতীয় কিকে এসে প্রতিপক্ষের মিসের সুবাদে লিড পেয়ে যায় লালু একাদশ। চতুর্থ কিকে আবারো দুই কিপার আজিজ ও হিলাল গোল বাঁচিয়ে দেন। পঞ্চম কিকে এসে ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায়। দুই দলই গোল পেলে ম্যাচের ফলাফল দাঁড়ায় ৩-২গোলের। আর তাতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মেতে উঠে লালু একাদশ।
ফাইনাল ম্যাচে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম।
খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার সভাপতি রুবেল আহমদ নান্নুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া চৌধুরী শিপলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কৃতী ফুটবলার লিয়াকত আলী চেরাগ, জাহান-ই আলম রাহেল, সেলিম বক্কর প্রমুখ।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বিবেচিত হন চ্যাম্পিয়ন দলের মহিউদ্দিন রাসেল। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটিও উঠে তার হাতে; তিনি তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ ৪গোল করেন। ম্যান আব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন বিজয়ী দলের গোলরক্ষক হিলাল আহমদ। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেন মুহিব আলী একাদশের আজিজ রহমান। তাছাড়া স্পিরিট অব এ্যামাজিন গোল পুরস্কার লাভ করেন নুর মোহাম্মদ।
ফাইনাল ম্যাচের আগে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় সোনালী অতীত ফুটবল দল, সিলেট এবং সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থা। উপভোগ্য এই ম্যাচে সোনালী অতীত ক্লাবকে শামসুলের দেয়া একমাত্র গোলে হারায় খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থা।
ফাইনাল খেলাটি পরিচালনা করেন রেফারি হাসানুজ্জামান মিলন, সালাউদ্দিন রাজু, কাওসার আহমদ ও আব্দুল মুকিত রাজন, ম্যাচ কমিশনার ছিলেন সমর চৌধুরী।
উল্লেখ্য কুটিম-জুয়েল ছিলেন সিলেট জেলা ফুটবল দলের সাবেক কৃতি খেলোয়াড়। দু’জনই ফুটবল মাঠে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া টুর্নামেন্টের ৮টি দলের নামকরণ কিংবদন্তি সিলেট জেলার সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকদের নামে নামকরণ করা হয়। দলগুলো ছিল জুম্মান একাদশ, মান্না একাদশ, লালু একাদশ, তমজিদ একাদশ, তিতন একাদশ, মুহিব একাদশ, মুক্তা একাদশ এবং ঝাড়ু একাদশ। সবগুলো খেলা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।














