জিয়াউল হক জিয়া (ক্রিড়া প্রতিবেদক):: সিলেট জেলার প্রয়াত ফুটবলারদের স্মরণে ‘সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি’ দ্বিতীয় বারের মত আয়োজন করেছে ‘কুটিম-জুয়েল স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। আজ প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচটি সমাপ্ত হয়েছে।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কমরু মিয়া ঝাড়ু একাদশ ও জুম্মন লুছাই একাদশ। এই ম্যাচ যে ইতিহাস হয়ে থাকবে সেটাইবা কে জানতো।

খেলায় দুই অর্ধ মিলিয়ে গোল বঞ্চিত থাকে দুই দল। ম্যাচে বিক্ষিপ্ত খন্ড খন্ড আক্রমণের দেখা মিললেও গোল পায়নি কেউ। তবে ঝাড়ু একাদশের হয়ে তাদের ফরোয়ার্ড বড় সুযোগটি মিস করেন। অনেকটা অপেন নেটে বল ঝড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

শেষ অবধি গুণে গুণে নিতে হয় ৩৬টি কিক। আর তাতেই ইতিহাস গড়া হয়ে যায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের। জানামতে এটাই সর্বোচ্চ টাইব্রেকার কিক। আর হয়তোবা এটি হতে পারে পুরো বাংলাদেশের ফুটবলীয় কোন ঘটনা। দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার, জেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার সদস্য আর শ’খানেক দর্শক ইতিহাস হয়েই থাকলেন এই ম্যাচ।

প্রথম পাঁচটি কিকে দুই দলই ৫টি করে গোল পায়। শুরু হয় সাডেন ডেথ কিক। একেক করে চলতে থাকে কিক। ৬ষ্ঠ কিকে দুই দলের কিকই পোস্টের বাহিরে চলে যায়। ৭ম ও ৮ম কিকে দুই দলই গোল পায়। ৯ম কিকে এসে প্রথমে রাজ্জাক সেভ দেন তাতেও ফলাফল আসেনি প্রতিপক্ষের কিকও কিপার জুয়েল রুখে দেন। ১০ম ও ১১তম কিকে এসে আবারো গোল পায় দুই দল। ২২টি কিকের পর আবার প্রথম থেকে কিক শুরু করেন রেফারি। ১২ ও ১৩তম কিকে গোল পায় দুই দলই। ১৪তম কিকে আবারো গোল বঞ্চিত থাকে দুই দল কিপাররা রুখে দেন তাদের। ১৫ ও ১৬তম কিকে দুই দলই গোল পেয়ে যায়। ১৭তম কিকে এসে আবারো দুই দলের শুটাররা ব্যর্থ হয় বল চলে যায় গোল পোস্টের বাহিরে। এখানেই শেষ নয় ম্যাচে দেখা দেয় আলো স্বল্পতা। তখন জ্বালিয়ে দেয়া হয় স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইট। বাকী কিক গুলো ফ্লাড লাইটের আলোতে নেন রেফারি। ১৮তম কিকে এসে কমরু মিয়া ঝাড়ু একাদশ গোল পায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ জুম্মন লুছাই একাদশের নেয়া কিকটি গোলকিপার জুয়েল রুখে দেন। আর তাতেই ১৪-১৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ঝাড়ু একাদশ। ম্যাচ সেরা হন কিপার জুয়েল। পুরস্কার তুলে দেন এসটিসি সেরামিক ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান শুভ্রত শাহা।

তার আগে দিনের প্রথম ম্যাচে আখতারুজ্জামান মান্না একাদশের মোকাবেলা করে লুৎফর রহমান লালু একাদশ। দুই অর্ধে দুটি করে ৪গোল ব্যবধানে মান্না একাদশকে উড়িয়ে দিয়েছে লালু একাদশ। ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মহিউদ্দিন রাসেল, ম্যাচ সেরাও হন তিনি। অন্য গোলটি করেন আবু বকর। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি তুলে দেন সিলেট রেফারি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সমর চৌধুরী।

মঙ্গলবার টুর্ণামেন্টের ২টি সেমি ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর দেড় ঘটিকায় মফিজুর রহমান তিতন একাদশের মোকাবেলা করবে মুহিব আলী একাদশ। অন্য ম্যাচে বিকেল সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হবে লুৎফর রহমান লালু একাদশ এবং কমরু মিয়া ঝাড়ু একাদশ।

আজকের দ্বিতীয় খেলাটি পরিচালনা করেন রেফারি সিহাব উদ্দিন, শামীম আহমদ, সালাউদ্দিন রাজু এবং সাদিয়া রহমান। উল্লেখ্য, সিলেট জেলার ফুটবলাররাই ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে খেলছেন এই টুর্ণামেন্টে। দলগুলো হল জুম্মান একাদশ, মান্না একাদশ, লালু একাদশ, তমজিদ একাদশ, তিতন একাদশ, মুহিব একাদশ, মুক্তা একাদশ এবং ঝাড়ু একাদশ। সবগুলো খেলা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সন্ধায় ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।


জুম্মন লুছাই একাদশ, আখতারুজ্জামান মান্না একাদশ, লুৎফর রহমান লালু একাদশ, তমজিদ আলী একাদশ, মফিজুর রহমান তিতন একাদশ, মুহিব আলী একাদশ, এনামুল হক মুক্তা একাদশ, কমরু মিয়া ঝাড়ু একাদশ।

উল্লেখ্য, সিলেট জেলার ফুটবলাররাই ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে খেলছেন এই টুর্ণামেন্টে। দলগুলো হল জুম্মান একাদশ, মান্না একাদশ, লালু একাদশ, তমজিদ একাদশ, তিতন একাদশ, মুহিব একাদশ, মুক্তা একাদশ এবং ঝাড়ু একাদশ। সবগুলো খেলা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।