নিজস্ব প্রতিবেদক :: শহরতলীর জালালাবাদ থানা এলাকার টুকেরবাজার সাহেবের গাঁও গ্রামের বাসিন্ধা ফুল মিয়া। সহজ সরল ফুল মিয়া নামে সবার কাছে পরিচিত। ছোট থেকে বড় হয়েছেন নিজ এলাকায়। কারো সাথে কোনো ঝগড়া কিংবা ঝামেলায় জড়ান নি। তাই ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত।
সিলেটের একটি স্থানীয় পত্রিকায় দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে অফিসে চলে আসেন দায়িত্ব পালনের জন্য। অফিস থেকে বাসায় ফিরেন রাত ১ -২ টা। গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারির ঘটঁনার দিন ফুল মিয়া পত্রিকা অফিসে সকালে বাসা থেকে চলে যান। রাত ১.৩০ মিনিটে বাসায় ফিরে জানতে পারেন দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের কেউ মারামারির ঘটনার সাথে জড়িতও না।
ফুল মিয়া ওইদিন ছিলেন পত্রিকা অফিসে। অথচ একটি পক্ষ ফুল মিয়া ও তার ভাইকে অন্য আসামীদের সাথে তাদেরকে আসামী করা হয়। মামলার বাদী পুলিশ দিয়ে ফুল মিয়া কে ধরিয়ে দেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ফুল মিয়া ও তার ভাইকে ষড়যন্ত্র মামলায় ফাসানো হয়েছে।
মারারির ঘটনায় আবুল হোসেন বাদি হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২০৪ তারিখ ১৩.০৯.১৯ মামলায় আসামীরা হলেন আকমল হোসেন, মাছুম আহমদ, আফজল, মো: দুলাল মিয়া, মো:আজাদ, সুমন আহমদ, রাজন আহমদ, মো: আলামিন, আব্দুল্লাহ, রাজিব, মো: মকবুল হোসেন, নজির আহমদ, আনা মিয়া, মো: মুজাহিদ, সর্ব সাং সাহেবেরগাও থানা জালালাবাদ।
অন্যদিকে আকমল হোসেন বাদি হয়ে পাল্টা মামলা দায়ের করেন মামলা নম্বও ২২২ তারিখ ০১.১০.১৯। মামলায় আসামী করা হয় আলমগীর, কামাল, আল আমিন, আলা উদ্দিন, আলা উদ্দিন, ফুল মিয়া, সবুজ, আবুল হোসেন।
এ ব্যপারে ফুল মিয়ার সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, আকমল হোসেন বিএনপি নেতা থাকা অবস্থায় আমার ভাইকে একটি মামলার সাক্ষী করা হয়। আমার ভাই মামলার ব্যাপারে কোনো কিছু জানে না অথচ আকমল হোসেন থাকে আদালতে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিতে জোর চালায়। এ ব্যাপারে আমার ভাই বিষয়টি আমাকে জানালে আমি আকমল হোসেনের কাছে সাক্ষী দেওয়ার কারণ জানতে চাই।
তখন আকমল হোসেন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি বলেন আমার মামলায় ‘তর ভাই যদি সাক্ষ্য না দেয় তাহলে তদের উচিত শিক্ষা দেবো। তারপর বুঝবি আমার কতটুকু পাওয়ার আছে’। এই ঘটনার কিছু দিন পর আকমল হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন।
মারামারির ঘটনায় আকমল হোসেন বাদি হয়ে যে মামলা করেছেন সেই মামলার দায়িত্ব পান জালালাবাদ থানার এস আই মো. আশরাফুল সিদ্দিকী। মামলাটি তদন্ত করে তিনি আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন। এস আই মো. আশরাফুল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি সঠিক তদন্ত না করে বাদি আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়াই আদালতে চার্জশীট দিয়েছেন।
সিলেটের দিনকাল পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, ওইদিন সে প্রতিদিনকার মতো অফিসে কর্মরত ছিলো। এমনকি ওইদিন সে অফিস থেকে বাড়ি ফেরে রাত ২টায়। তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে জালালাবাদ থানার ওসি অকিল উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয় আমলে নিলাম। গুরুত্বের সাথে দেখবো।
সৌজন্যে — সিলেটের দিনকাল
সিলেটউইটনেসডটকম/৭নভেম্বর২০১৯/নিজি/২২২-৬৩৩














