সিলেটউইটনেস ডেস্কঃ
সিলেটের ওসমানীনগরে ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষ উপজেলা প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি উপজেলার দয়ামীর ইউপির রাইকদাড়া (নোয়াগাও) গ্রামে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে করোনা ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীকে তার বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। রোগীর পরিবার ও বাড়ির সকল সদস্যদের বাড়ি থেকে না বের হবার নির্দেশনা দিয়ে বাড়ি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় লকডাউন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও করোনা আক্রান্ত রোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে উপজেলার দয়ামীর ইউপির রাইকদাড়া (নোয়াগাঁও) ৫৫ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা সন্দেহ জনক মনে করে এই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেন। এরই মধ্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। গত বুধবার রাত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে মৌখিক ভাবে জানানো হয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর করোনা (পজেটিভ) শনাক্ত হয়েছে।
রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে দু’জন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে প্রহরা বসানো হয়। এর পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে খবর।
স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদ উল্যা বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে আমার ওয়ার্ডের করোনা সনাক্ত হওয়া রোগীর বাড়িতে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমাদের পরিষদের পক্ষ থেকে দু’জন গ্রাম পুলিশ রোগীর বাড়ির সামনে রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গ্রাম পুলিশরা দায়িত্ব পালন করবে। রোগী সহ তার পরিবারের সকলকে বলা হয়েছে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমরা তা সরবরাহ করব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. এসএম শাহরিয়ার করোনা রোগী শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের মেডিকেল টিম রোগীর স্ত্রী সহ যারা এই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা সহ ৩জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য যারা এই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদেরকে আগামী শনিবার তাজপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে নমুনা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে গিয়ে বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এই ব্যক্তি কার কার সাথে মিশেছেন বা কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাইয়ের সাত সন্তানের সহ আশপাশের বাড়ির লোক যারা এই রোগীর সংস্পর্শে এসেছে তাদের মধ্যে রোগীর স্ত্রীসহ তিনজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে মেডিকেল টিম। সূত্র-মানবজমিন।














