ডেস্ক নিউজ::বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেট সুপরিচিত চা-বাগান, পাহাড় টিলা এবং মাজারের শহর হিসেবে।
প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ বেড়াতেও যান এই শহরে।
কিন্তু হঠাৎ করেই ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এই শহর।
কারণ ডিজিটাল স্মার্ট প্রকল্পের অধীনে সিলেটই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম ঝুলে থাকা তার আর বৈদ্যুতিক খুঁটিবিহীন শহর।
ইতোমধ্যে শহরের দরগা গেইট এলাকার সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সব তারের জঞ্জাল ও বিদ্যুতের খুঁটি।
সিলেট নগরীকে বলা হয় আধ্যাত্মিক নগরী আধ্যাত্মিক এই নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বছরের বারো মাসই বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নগর কর্তৃপক্ষকে এই ধারাবহিকতায় এ বছরের শুরুতেই সারাদেশে এই প্রথম সিলেটের বিদ্যুৎ লাইন গেলো ভূগর্ভে। আর সিলেট নগরের হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ সড়ক এই জঞ্জাল থেকে প্রথম মুক্ত হলো।
অথচ দুইদিন আগেও প্রতিটি খুঁটিতে বৈদ্যুতিক লাইনের সঙ্গে মাকড়সা জালের মতন ঝুলছিলো টেলিফোন লাইনসহ অন্যান্য ক্যাবল লাইন।
এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রথম ভূগর্ভে দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে।
বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের জঞ্জাল মুক্ত হওয়ায় বাড়তি সৌন্দর্য বেরিয়েছে এই এলাকার। ফলে সিলেটকে ডিজিটাল সিটি করার লক্ষ্যে কাজ একধাপ এগোলো বলে মনে করছেন নগরের বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎলাইন মাটির নিচে নেওয়ার পর সোমবার (৬ জানুয়ারি) দিন থেকে রাত অব্দি খুঁটি সরানোর কাজ করেন বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। এরপর বেরিয়ে আসে খুঁটিহীন নগরের সৌন্দর্য।
আর আওয়ামী লীগ সরকারের এই উদ্যোগকে আরেকটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সিলেটের মানুষ। এই সৌন্দর্যকে ধারণ করতে ছবি তুলে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন। প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মন্তব্য ।
ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পটি চট্রগ্রাম থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিলো সাবেক অর্থমন্ত্রী সিলেটের কৃতি সন্তান আবুল মাল আব্দুল মুহিতের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট থেকে এই প্রকল্পটি শুরু করার অনুমতি দেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট ১ আসন তথা সিলেট সরদ উপজেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোকিত সিলেটের স্বপ্নদ্রেষ্টা ড.এ কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে ডিজিটাল সিটি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সার্বিক বিষয়ে সিসিক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় বলেন, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে মোমেন আন্তরিক থাকায় আমরা একটি আধুনিক সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছি। ধীরে ধীরে আমরা একটি সত্যিকারের বসবাসযোগ্য সিলেট নগরী গড়ে তুলতে পারব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৫শ আরএম স্কয়ার ক্যাবল ক্যাপাসিটির তার নগরের ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইস্থ বিদ্যুৎ সাবস্টেশন কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন আম্বরখানা হয়ে যাবে চৌহাট্টায়। সেখান থেকে একটি লাইন যাবে নগরীর জিন্দাবাজার হয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সার্কিট হাউজ পর্যন্ত। আরেকটি লাইন যাবে চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার হয়ে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজ ২০১৯ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। এরপর দীর্ঘায়িত হয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।
প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বিদ্যুতের ডিভিশন-১,২,৩,৪ এলাকায় নয়টি সাবস্টেশন হবে। বিভাগে অত্যাধুনিক অন্তত ২৫টি সাবস্টেশন হবে। নগরের ভূগর্ভ লাইনসহ সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ উন্নয়নের কাজ চলছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে ৩৩ কেভি ২ কিলোমিটার, ১১ কেভি ২৫ কিলোমিটার, চার কেভি ১৮ কিলোমিটার ভূগর্ভ লাইন, ১১ দশমিক ৪ কেভি উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎবিভাগ সিলেটের চারটি ডিভিশনে ট্রান্সফরমার স্থাপন, ১১ কেভি লাইন ২০২ কিলোমিটার নতুন, সংস্কার ৩৫৬ কিলোমিটার, ১১ দশমিক ৪ কেভি নতুন ১৭৭ কিলোমিটার, সংস্কার ২২৮ কিলোমিটার, চার কেভি নতুন লাইন ৩৪৯ কিলোমিটার এবং ৩৫০ কিলোমিটার সংস্কার কাজ করা হবে।














