সিলেট উইটনেস ডেস্কঃ দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন রেডিও, টেলিভিশনের ধারাভাষ্যকার শামসুল ইসলাম। গতকাল সোমবার (২১অক্টোবর) রাজধানীর শ্যামলী পঙ্গু হাসপাতালের সামনে দুপুর ১১ঘটিকায় এই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তার নগদ তিন হাজার টাকা নিয়েগেছে। তিনি শারীরিক ভাবে সুস্থ রয়েছেন। ঘটনাটি তিনি তার ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছেন।

(পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল)

সচেতনতামূলক পোষ্টঃ
শিরোনামঃ দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের স্বীকার হলাম
–শামসুল ইসলাম

স্থানঃ শ্যামলী পঙ্গু হাসপাতালের সামনের ফুটপাত
সময় ও তারিখঃ সকাল ১১ টা, ২১.১০.২০১৯- সোমবার
ঘটনার বিবরণঃ শিশুমেলায় নেমে নতুন ওভারপাস দিয়ে রাস্তা পার হলাম। তারপর শিশুমেলার ফুটপাত বরারব হাঁটতে শুরু করলাম রেডিও অভিমুখে। শিশু হাসপাতাল পেরিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের ফুটপাতে হাঁটছি। ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাষ্যকার পলাশ খাঁনের সাথে ফোনালাপ চলছে।



বিপরীত দিক থেকে আসা এক লোক আমার পায়ের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে হোঁছট লাগালো। আমি ফোনে কথা বলা অবস্থায় তাঁর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে দুঃখ প্রকাশ করলাম। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করি। সংগে সংগে সে আমাকে পিছন থেকে ডাক দিয়ে বলে ভাই একটু শোনেন। এভাবে ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা চলবেননা। দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। (আমি তখনও ফোনের লাইন কাটিনি, হাতেই ধরে ছিলাম, পলাশ আমাদের কথা রেকর্ড করেছে) এমন কিছু জ্ঞান দেয়ার সাথে সাথে সে আমার শরীরের খুব কাছাকাছি চলে এলো এবং আমার পরিচয় জানতে চাইলো।তার পরিচয় দিয়ে বললো আমি যুবলীগ নেতা জগলু (অবশ্যই ভুঁয়া পরিচয় দিয়েছে, তবে বয়স আনুমানিক ৫০ বছর)। আমাকে এই এলাকায় সবাই এক নামে চেনে।

আমার হাতটা ধরে তার কোমরে ঠেকিয়ে বোঝালো যে, তার কাছে পিস্তল আছে, বেশী উচ্চবাচ্চ করলে শুয়ায়ে দিবে। আমার বুঝতে বাকি নেই আমি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছি। আমি তখন ভাবছি কিভাবে প্রতিবাদ করবো? একদৌড়ে সোজা চলে যাব নাকি, রাস্তা পার হয়ে যাব। নাকি চিৎকার করে লোক জোগাড় করবো, ডাক শুনে ঢাকা শহরে নরমালি কেউ আসেনা, লোক আসবেতো? এসব ভাবতে ভাবতেই তাদের গ্যাংয়ের একসদস্য (বয়স আনুমানিক ৪০ বছর) আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে, বড়ভাই যা বলে সব ঠিকঠাক শুনে নিন, অন্যথা করলে ফালায়া দিব, লাভ হইবোনা। আমি তৎক্ষণাত প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার চিন্তা থেকে সরে আসি। বুঝে গেছি তাদের একটি বড় গ্যাং আছে। আমি কোন ঝামেলা করলে যেকোন দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে তারা।



পরে জনৈক জগলু বলে আমি সবসময় সত্য কথা পছন্দ করি। আমাদের কর্মীদের আপ্যায়নের জন্য কিছু বকশিস দিয়ে যান। সত্যি করে বলেন, আপনার কাছে কত টাকা আছে। মানিব্যাগ বের করতে বললো আমি সুবোধ বালকের মতো মানিব্যাগ ওপেন করলাম। সেখান থেকে বড় নোটগুলো অর্থাৎ ৩০০০/- টাকা নিয়ে খুচরোগুলো রেখে দিল। তারপর বললো সোজা হেঁটে চলে যান পিছনে তাকাবেননা। আমি তাই করলাম।পুরা ঘটনাটি ঘটলো ২/৩ মিনিটের মধ্যে।
পলাশের পরামর্শে দ্রুত ৯৯৯ এ কল করে অভিযোগ করলাম। রেডিওর সামনে কিছু পুলিশ ডিউটি করছিল তাদেরকেও বললাম। শরীফ নামের একজন পুলিশ অফিসার আমাকে তাঁর বাইকে বসিয়ে দ্রুত স্পটে গেলেন কিন্তু তারা লাপাত্তা। ৯৯৯ এর কল্যাণে শেরে বাংলা নগর থানার টহল পুলিশের টিম এলো স্পটে। যেহেতু কোন প্রমানাদি নেই তাই তারাও আমকে কিছু জ্ঞান/উপদেশ দিলেন। সাহসী হতে পরামর্শ দিলেন। বললেন দিনে দুপুরে এমন কাজ হলো, আপনি চেঁচিয়ে লোক জোগাড় করলেননা কেন?



আমার কিছু হয়ে গেলে, কেউ কি ফিরিয়ে দিতে পারতেন ? উল্টো আমাকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে তাদের গ্যাংযের সদস্যরা পিটুনি দিলেই বা আমি কি করতে পারতাম। তখন হয়তো দেখা যেতো আমি গনপিটুনির স্বীকার হয়েছি।

উপসংহারঃ গতকাল সারাদিন আমি এই ঘটনাটি নিয়ে মর্মাহত ও বিষন্ন ছিলাম। তাই আজ শেয়ার করছি আপনাদের সাথে। আমি হয়তো ৩০০০/- টাকায় মুক্তি পেয়েছি! কিন্তু বিষয় হলো, আমার কাছে মোটা অংকের টাকা থাকতে পারতো, তখন ক্ষতির পরিমান আরো বড় মনে হতো, কষ্ট হয়তো আরো বাড়তো। এই ঘটনা থেকে আমরা একটাই শিক্ষা নিতে পারি তা হলো- ঢাকা শহরে অপরিচিত কেউ হঠাৎ ডাক দিলে, সাড়া দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আপনারা প্রত্যেকেই নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন।