নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে অঘষোতি লকডাউন চলছে। সবকিছুই বন্ধ। রাস্তাঘাটও ফাঁকা। এতে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র মানুষেরা বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ গুলো। এই সঙ্কটে অসহায় মানুষদের সহায়তায় সরকারের পাশপাশি এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সংগঠনও। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগেও সহায়তা করছেন দরিদ্র শ্রমজীবীদের। সিলেটে শ্রমজীবীদের জন্য সহায়তার হাত বাড়ালেন ক্রিড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। দরিদ্র, শ্রমজীবী, রিকশা চালক মিলিয়ে দেড় হাজার মানুষকে সহায়তা করলেন তিনি।

মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে সফল একজন ক্রিড়া সংগঠক। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাহা’র স্বত্বাধিকারীও তিনি।

মঙ্গলবার ৩১মার্চ দুপুরে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সামনে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল উপস্থিত ছিলেন।

বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর প্রতি প্যাকেটে ২০ কেজি চাল, ১০কেজি আলু, ৫কেজি পেঁয়াজ, ২কেজি ডাল, ২কেজি চিনি, ১কেজি লবন, ১লিটার সোয়াবিন তেল, ৫০০ গ্রাম গুড়া দুধ, সাবান, হলুদ, জিরা, আদা, রসুন, মরিচ ও চা পাতা ছিল।

তাছাড়া তিনি কর্মক্ষম এবং রিকশা চালকদের মাঝে নগদে টাকা বিতরণ করেন।

সাধারণ সম্পাদক সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, শাহ দিদার আলম চৌধুরী উনাকে নিয়ে তাঁর ফেইসবুক লিখেন,
“একজন #মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম #
মাহি উদ্দিন আহমেদ সেলিম। একজন আপাদমস্তক ব্যবসায়ী, ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ও সমাজহিতৈষী মানুষ। গরীব, দু:খী, অসহায়দের মাঝে সহায়তা বিলান দু’হাতে। কিন্তু তার দান অনুদানের প্রকাশ নেই। এক্ষেত্রে পুরো নিভৃতচারী তিনি। বিভিন্ন সময় আমার হাত দিয়ে অনেকের কাছে তার সহযোগিতা পৌঁছেছে কিন্তু কখনও প্রচার চাননি।
নিজের খরচে তিনি অনেক গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডাক্তার বানিয়েছেন। অনেক রোগির চিকিৎসার ভার গ্রহন করেছেন। তার এই মানবিক কাজগুলো সব সময় থেকে যায় আড়ালের গল্প হিসেবেই।
সারাবিশ্ব যখন করোনাভাইরাস আতংকে ঘরবন্দি তখন অসহায়ত্ব বাড়ছে শ্রমজীবী মানুষদের। তারা না থাকতে পারছেন ঘরে, না পারছেন বের হতে। পেটের টানে ঝুঁকি নিয়ে বের হলেও কাজ না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে শূণ্য হাতে। এই যখন বাস্তবতা তখন প্রকাশ্যে এলেন মাহি উদ্দিন সেলিম। প্রথমবারের মতো (এর আগে আমি কোন দিন প্রকাশ্যে সাহায্য করতে দেখিনি) অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই খাদ্য উপহার তুলে দিলেন ৩০০ শ্রমজীবীর হাতে। যে উপহার দিয়ে একেকটি পরিবারের অন্তত ১৫ দিন চলে যাওয়ার কথা।
যতটুকু জানি এবারও সেলিম ভাই চেয়েছিলেন অতীতের মতো গোপনে অসহায়দের বাড়িতে বাড়িতে সহায়তা পাঠাতে। কিন্তু কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুরোধে সেটা হয়নি। তবে আমি বলবো এটা ভালই হয়েছে। ভাল কাজে প্রতিযোগিতা থাকা মংগলজনক। এক জনের ভাল কাজ দেখে অন্যজন উদ্বুদ্ধ হন। এগিয়ে আসেন অনেকে৷ সেলিম ভাইয়ের এই কর্মকান্ড নিশ্চয় সমাজের অনেক বিত্তশালীদের বিবেককে নাড়া দেবে৷ তারাও নিশ্চয় এগিয়ে আসবেন, হাসি ফুটাবেন দুঃখিজনে।
আসুন মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করি। এতে হৃদয়ের দুয়ার প্রশস্ত হয়। নিন্দা আর পরশ্রীকাতরতা মানুষকে কেবলই সংকীর্ণ করে।”