সিলেটউইটনেস ডেস্কঃ ইসতিয়াক আহমেদ (৩০)। এক তরুণীর সাথে তার চার বছরের প্রেম। এই সূত্রে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। এক সময় ওই তরুণী বিয়ের কথা বলে। কিন্তু ইসতিয়াক তাকে জানায় তার পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিবে না। বরং তার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছে।

শুক্রবার ১৬সেপ্টেম্বর, ইসতিয়াকের বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গায়ে হলুদের মঞ্চ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয় ইসতিয়াক। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যায় সে।

এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায়। গ্রেফতারকৃত ইসতিয়াক ওই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে।

বাদী অভিযোগ করেন ইসতিয়াকের সাথে তার চার বছর প্রেমের সম্পর্ক চলে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমিক ইসতিয়াক দৈহিক সম্পর্ক করে। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে দেওভোগ নাগবাড়ীর জিকুদের চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার দক্ষিণ পার্শ্বে প্রেমিক ইসতিয়াক আহম্মেদের ভাড়া বাসায় তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই তরুণী বিয়ের কথা বললে ইসতিয়াক নানা টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করে অন্যত্র বিয়ে করার পাঁয়তারা করে। এদিকে গত বুধবার সে জানতে পারে ইসতিয়াক অন্যত্র বিয়ে করছে। পরে বৃহস্পতিবার ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে সে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

তবে প্রেমিক ইসতিয়াকের দাবি, ওই মেয়ের সাথে তার গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ তিন বছরে প্রেমিকার নিজ বাসায় উভয়ের সম্মতিতে দুই বার শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে। ইসতিয়াক তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়। কিন্তু বিষয়টি তার বাব-মা মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং তার অনত্র বিয়ে ঠিক করে। বিষয়টি সে তার প্রেমিকাকে অবগত করে। বৃহস্পতিবার ছিল তার গায়ে হলুদ আর শুক্রবার বরযাত্রা।

ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ইসতিয়াককে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

‘স্বেচ্ছায় সেক্স করে ধর্ষণ বলতে পারবেন না মেয়েরা’

 বিয়ের কথা দিয়ে সহবাস করার পর যদি প্রেমিকের সঙ্গে কোনও কারণে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না সব ক্ষেত্রে।

প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা একটি মামলায় এই রায় দিয়েছেন ভারতের বোম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি মৃদুলা ভাটকার।

ওই মামলাটিতে ২১ বছরের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন তার প্রাক্তন প্রেমিকা। প্রেমিকার অভিযোগ, ওই যুবক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ হন। কিন্তু তারপর আচমকা তাদের সম্পর্কে চিড় ধরে যায়। সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে যান যুবক। এর পরেই প্রেমিকা ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। এই নিয়ে বোম্বাই হাইকোর্টে একটি মামলাও শুরু হয়। কিন্তু এমন ঘটনাকে ধর্ষণের তকমা দিয়ে সব সময় ছেলেদের দোষ দেখাটাতেই নারাজ বিচারপতি। তিনি মনে করেন, দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে যৌন সম্পর্ক যদি সেই মুহূর্তে উভয়ের সম্মতিতেই হয়ে থাকে তা হলে তা ধর্ষণ হবে কী করে? কোনও শিক্ষিত মেয়ে স্বেচ্ছায় তার প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর যদি প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তাহলে তিনি কোনওভাবেই সেই সহবাসকে ধর্ষণ হয়েছে বলে দাবি করতে পারবেন না। বিয়ের আগে স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কের দায়িত্ব থেকে তিনি মুখ ফেরাতে পারবেন না।

প্রাক্তন প্রেমিকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২১ বছরের এক যুবককে অগ্রিম আগাম মঞ্জুর করার সময়ে এ রায় দেন তিনি।

রায় ঘোষণার সময়ে বিচারক মৃদুলা ভাটকর বলেন, সমাজ এখন আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অতীতে বিয়ের আগে কোনও মেয়ে বা ছেলে যৌন সম্পর্ক রাখতেন না। সেটা সমাজের চোখে অপরাধ ছিল। কিন্তু এখনকার যুবসমাজ অনেক বেশি খোলা মনের। বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে তাদের কোনও রাখঢাক নেই। নিজেদের ইচ্ছাতেই তারা প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকেন। পরে আবার অনেকেই এটাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের তকমা দিয়ে দেন। এটা হওয়া উচিত নয়। কারণ, বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কের পরিণাম কী হতে পারে তা এক জন শিক্ষিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অবশ্যই জানবেন। তাই সব ক্ষেত্রেই এমন ঘটনাকে ধর্ষণের পর্যায়ে ফেলা উচিত হবে না। তার মানে যদিও এই নয় যে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিক্ষিত মেয়েদের আনা সমস্ত অভিযোগকে আগে থেকেই অস্বীকার করা হবে। কোনটা ধর্ষণ আর কোনটা ধর্ষণ নয়, তা অবশ্যই পরিস্থিতির বিচারে স্থির করা হবে।

মামলার রায় দিতে গিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মেয়েদের উপরে তার প্রভাবের কথাও টেনে এনে বিচারপতি আরও বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই বিশ্বাস করা হয় যে বিয়ের আগে পর্যন্ত কুমারিত্ব রক্ষা করা একটি মেয়েরই দায়িত্ব।  ফলে নিজের এই সিদ্ধান্তের দায়ভার মহিলা নিতে চান না।

এই প্রসঙ্গেই আদালত জানায়, সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে মেয়েটির কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির জীবন এবং স্বাধীনতার দিকটিও নিরেপক্ষভাবে বিচার করা উচিত আদালতের। এই মামলার রায় দিতে গিয়ে অতীতে আদালতের দেওয়া একই ধরনের নির্দেশও তুলে ধরেন বিচারপতি। সেই নির্দেশগুলোতেও বলা হয়েছিল, কোনও মহিলা শিক্ষিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ের আগে সহবাসের পরিণতি তারও জানা উচিত।
#ঘটনাসূত্র ২০১৭