জিয়াউল হক জিয়া (সিলেট উইটনেস): মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়, সিলেট’র বাস্তবায়নে কৃষকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা উদ্বুদ্ধকরণ ‘কৃষক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা।

৩০অক্টোবর বুধবার, সিলেট সদর উপজেলায় কৃষি অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০জন কৃষক অংশ নেয়।

আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় দিন ব্যাপি কর্মশালায় মূল বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এনায়েত উল্লাহ এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তার আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শিরিন আক্তার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাদাত।

কর্মশালায় জানানো হয় আগামী ৩-৭নভেম্বর সিলেট সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা (এমএসটিএল ‘সুরমা’) কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। ঐসময় চাষীরা যে কেউ মাত্র ২৫টাকায় আবাদী জমির মাটি পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। এইসময় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকদের নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা করার জন্য আহবান করা হয়।



মাটি পরীক্ষার জন্য কিভাবে মাটি সংগ্রহ করবেন?

মাটির স্বাস্থ্যকে সঠিকভাবে জানতে হলে মাটি সংগ্রহের কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি জানতে হবে, তা না হলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না। আসুন জেনে নিই কীভাবে মাটি সংগ্রহ করবেন?

১) জমিতে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থান নির্বাচন করতে হবে। মোটামুটি একবিঘা জমিতে ১০-১২ টা স্থান (Spot) নির্বাচন করলে ভালো হয়।

২) জমির আল থেকে কম করে ২ হাত ছেড়ে স্থান নির্বাচন করতে হবে।

৩) জমিতে ফসল থাকলে সেই জমির নমুনা সংগ্রহ না করাই ভালো, তবে জরুরী প্রয়োজনে মাটির নমুনা সংগ্রহ করলে দুই সারির মাঝামাঝি স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করা যেতে পারে।

৪) জমির অবস্থান যদি ঢালু হয় তাহলে নিচের দিকে ২ হাত ছেড়ে ও উঁচুর দিকেও ২ হাত ছেড়ে নমুনা সংগ্রহের স্থান নির্বাচন করা উচিত।

৫) জমিতে যদি গাছ থাকে তাহলে ছায়াযুক্ত স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না।

৬) সদ্য ব্যবহৃত জৈব বা অজৈব সার যে জমিতে দেওয়া হয়েছে, সেখানকার মাটি পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা যাবে না।



মাটির নমুনা সংগ্রহ করবার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-

কোদাল, খুরপি, বালতি, পুরানো খবরের কাগজ ইত্যাদি।

কিভাবে ও কতটা গভীর করে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে হবে?

প্রথমেই বলেছি বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্পট নির্বাচন করতে হবে। বিঘাতে ১০/১২ টা স্থানে হলে খুব ভালো হয়। এবার যদি জমিতে আগাছা থাকে তাহলে কোদাল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর কোদাল দিয়ে খাঁড়াভাবে কোপ মারতে হবে যাতে ৬-৯ ইঞ্চি গভীরে কোদাল চলে যাবে। এবার কোদাল তুলে উল্টোদিকে কাত করে এমনভাবে কোদাল মারতে হবে যাতে (V) ভি-আকৃতি বিশিষ্ট হয়। এই ভি আকৃতির মাটি তুলে পাশে রাখতে হবে। এবারে খুপরি বা নিড়ানি দিয়ে খাঁড়াভাবে কাটা অংশে ১-১.৫ ইঞ্চি মাটি কেকের মতো উপর থেকে নীচ অবধি কাটতে হবে। এই কাটা অংশের মাটি যেন সব স্তরের থাকে। এখান থেকে কেবল মাত্র কেকের পিসের মতো মাটি সংগ্রহ করতে হবে। এভাবে প্রতিটি V আকৃতির কাটা গর্তে ১ পিস মাটি সংগ্রহ করতে হবে। এভাবে ১০/১২ টি নমুনা বালতিতে রাখতে হবে। সব মাটির ওজন কমবেশি ২ কেজির মতো হবে। কিন্তু পরীক্ষাগারের জন্য ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম মাটি লাগবে।



সংগ্রহ করা মাটি যদি বেশি আর্দ্রতা থাকে তাহলে ছায়াযুক্ত স্থানে খবরের কাগজের ওপর রেখে ২/৩ দিন রেখে শুকাতে হবে। তারপর সব মাটি ভালোভাবে গুঁড়ো করতে হবে। এসব আগাছার শিকড়, ঘাস, পাথর ইত্যাদি বাছতে হবে। এবারে সব মাটি এক জায়গায় রেখে গোল করে বিছানো হবে। এবার হাত দিয়ে যোগচিহ্নের মতো ভাগ করতে হবে, কোনাকুনি যে কোনো ভাগ রেখে বিপরীত ভাগের মাটি বাদ দিতে হবে-এভাবে ৩/৪ বার ভাগ করলে ৩০০ গ্রামের মতো পরিমাণ হবে যেটা পরীক্ষা করার জন্য রাখতে হবে।

পলিথিনের প্যাকেটে মাটি ভরে প্রতিটি নমুনায় কাগজে জমির পরিচিতি, কৃষকের নাম ঠিকানা, কোন ফসল ছিলো, কি ফসল চাষ করবেন ইত্যাদি সাদা কাগজে বিস্তারিত লিখতে হবে। এই কাগজের লেখা দুই কপি করতে হবে। ১ কপি নমুনার প্যাকেটের ভিতরে থাকবে অন্যটি প্যাকেটের বাইরে থাকবে। উল্লেখ থাকে যে জমির পরিচিতি অর্থ- মৌজা, খতিয়ান, দাগ নং, জমির অবস্থান ইত্যাদি লেখা থাকবে যাতে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায় কোন জমির মাটি।