নগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাসাভাড়া। গত পাঁচ বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ। কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র নগর গবেষণা কেন্দ্রের জরিপ অনুসারে, সিলেট নগরীতে ৫ বছরে ভাড়া বেড়েছে প্রায় একশ’ শতাংশ এবং গত ১৫ বছরে বেড়েছে দুশ’ শতাংশ।
সে হারে বাড়েনি মানুষের আয়। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে; কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। এভাবে চলতে থাকলে নগরীতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। অথচ এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই। বাসাভাড়া নির্ধারণের জন্য আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ নেই। ঘরে-বাইরে স্বস্তি নেই নগরবাসীর।
একদিকে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য উভয়ের দাম বাড়তে থাকায় দিশেহারা মানুষ, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর একাধিকবার গ্যাস-পানি, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে নগরবাসীর। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা অবস্থায় পানি সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব। নগরবাসীর ৪০ শতাংশই ভাড়াটিয়া। মাস গেলে যাদের ঘাড়ে নতুন করে বর্ধিত ভাড়া যোগ হওয়ার আশঙ্কা।
সে সঙ্গে সম্প্রতি মাস শেষে আসছে বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল। সেই সঙ্গে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে নগরবাসী। গত ক’দিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে। এসব নাগরিক দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।
নগরীর জিন্দাবাজার, দাঁড়িয়াপাড়া, চৌহাট্টা, লামাবাজার, মিরাবাজার, সোবহানীঘাট, তোপখানা, তাতিপাড়া, আম্বরখানা এলাকায় মেয়েদের স্কুল ও কর্মস্থলের সুবিধার্থে পরিবারগুলোর পছন্দের এলাকা হলেও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বাসা নিতে পারছেন না অনেকেই। বাধ্য হয়েই তারা উপশহর কিংবা টিলাগড়ের দিকে বাসা নিতে হচ্ছে।
সেজন্য তাদেরকে সহ্য করতে হচ্ছে প্রতিদিনকার রিকশা ভাড়া আর যানজটের যন্ত্রণা। পাগলা ঘোড়ার মতো বাসা ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াটিয়া পরিবারগুলো পেরেশানীর মধ্যে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দু’বছর আগে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় দু’রুমের একটি বাসার ভাড়া ছিল ১৫০০ টাকা; বর্তমানে তা ৩ হাজার টাকা হয়েছে। কাঁচাবাড়ির ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার টাকা। বস্তির এক রুম ২০০০ টাকা ছিল, এখন তা হয়েছে ৫০০০ টাকা।
মিরবক্সটুলা এলাকার ভাড়াটে গৃহিনী রুশনা বেগম জানান, যে হারে বাসাভাড়া বাড়ছে মধ্যবিত্ত মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। দু’বছর আগে যে বাসা ৩ হাজার টাকা ছিল এখন ওই বাসায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে পরিবারের সদস্য সংখ্যার চাপ নিয়েও এখানে বাস করছি। সেই সঙ্গে তো আছেই-পানি, বিদ্যুতের সমস্যা। উপশহরে বসবাসকারী জামিল আহমদ জানান, পছন্দের বাসার জন্য বছরে বছরে বাসা বদল করছি।
বর্তমানে ৫ হাজার টাকার বাসা ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকছি। বাসার ভাড়া এতো ব্যবধান কেন জানতে চাইলে বাড়িওয়ালা বলেন, নতুন বাসা। নিচের ফ্ল্যাটে একজন ইঞ্জিনিয়ার থাকছেন ১০ হাজার টাকায় অতএব দোতালায় আপনাকে ১২ হাজার গুণতে হবে। এইকভাবে জিনিস পত্রের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানোর কথা বললেন।
পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, বর্তমানে বাড়ি ভাড়ার জন্য এতোই দুশ্চিন্তায় আছি তা বলার বাইরে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন সিলেটে গ্যাস সংযোগ যেনো পুনরায় খুলে দিন। তাতে কিছুটা হলেও বাড়ি ভাড়ায় শীতিলতা আসবে। নগরীর লামাপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর সুমন মিয়া জানান, আমি দৈনিক আয় করি ৩০০ টাকা। একটি পাঁচতলা বাসার ছাদে থাকি। দু’রুমের বাসার ভাড়া ৬০০০ টাকা। তিনি বলেন, ভাড়া দিয়ে দৈনিক খেয়ে বাচা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।














