জিয়াউল হক জিয়াঃ সিলেটসহ সারা দেশে বিদেশি ফুটবলারদের ছড়াছড়ি, স্থানীয়সহ দেশের পুরো ফুটবল যেনো তাদের আগ্রাসনের শিকার।
পাড়ার ছেলেদের মত হাত বাড়ালেই মিলে তাদের। নাইজেরিয়া, উগান্ডা, ঘানা, সাইবেরিয়া প্রভৃতি আফ্রিকান ফুটবলাররা দেশের আনাচে-কানাচে খেলে বেড়াচ্ছে। বিনিময়ে মোটা অংকের পারিশ্রমিকও পাচ্ছে তারা। দেশের ফুটবল এখন এইসব বিদেশিদের দখলে একথা অনায়াসেই বলা যায়।
দেশের প্রিমিয়ার লিগসহ সর্বত্র দেখা মিলে তাদের। কিভাবে তারা এই দেশে খেলে বেড়াচ্ছে তা নিয়েও আছে নানা ধূম্রজাল। ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে সৈয়দ জমিরুল হক ফুটবল টুর্নামেন্টে অনেকটা চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে সিলেটের সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।
টুর্ণামেন্টের সবগুলো পর্বই তারা স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে খেলেছে। ফাইনাল ম্যাচে বিদেশি নির্ভর দলের বিপক্ষে স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল। কারা জিতবে, কি ঘটবে, এমন প্রচারে জমে উঠে ঐ টুর্ণামেন্টটি। আর তাইতো দুপুর ২ঘটিকার আগেই দাওরাই ষড়পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠের চারপাশ দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সহজ কথা একেবারে হাউজফুল গ্যালারি। বিকেল ৩ঘটিকায় মুখোমুখি হয় দল দুটি।
এক দিকে পাঁচ বিদেশি নির্ভর জেইন-ইয়াফি-জাহী একাদশ খাদিমপুর অন্যদিকে স্থানীয় ফুটবলার নিয়ে গঠিত সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, উপশহর, সিলেট। তুমুল লড়াকু তীব্রপ্রতিদ্বন্দিতা পূর্ণ, শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪টি গোলের দেখা মিলে। নির্ধারিত সময়ের খেলা তাই ২-২গোলে শেষ হয়। অবশেষে টাইব্রেকার ভাগ্যে হেরে যায় সাইফ স্পোর্টিং। ফলে টুর্ণামেন্টে রানার্সআপ হয়েই ফিরতে হয় তাদের। তবে এই দিন স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি দর্শকের ভালবাসা আর বাহবাটা পেয়েছে যথার্থই। সাইফ হেরেগেলেও গত মৌসুমে একই রকম বিদেশিদের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সিলেট জেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। সেইদিন তারা ২-০গোলে জিতেছিল।
জগন্নাথপুরের লামা রসুলগঞ্জ মাঠে ২০১৭’এ পুরো বিদেশি দলের বিপক্ষে ১-০গোলে জিতেছিল সিলেটের ফুটবলাররা। পিছনের ইতিহাস ঘাটলে মিলবে অনেক কিছু। আশি-নব্বই দশকতো ছিল দেশের ফুটবলের সোনালি দিন। তখন দেশের খেলোয়াড়ররাই তারকা হিসেবে আলোচিত ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর পর কি করে যেনো আমরা বিদেশি নির্ভর হয়ে পড়ি। যার প্রভাব গ্রাম-গঞ্জেও এসে লাগে। স্থানীয় বিভিন্ন ইভেন্টগুলোও অনেকটা বিদেশি ফুটবলার নির্ভর হতে দেখা যায়। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজার সাইফ সেলিম ফাইনাল ম্যাচ শেষে আমাদের প্রতিনিধিকে ব্রিফিং করেন।
তিনি বলেন, আমি খুবই আনন্দিত যে প্রত্যেক দর্শক, আমার পরিচিত অপরিচিত সবাই খুবই খুশী যে বিদেশিদের বিপক্ষে আমাদের দেশের খেলোয়াড়গণ প্রমাণ করেছেন তারা ভালো এবং যোগ্য ফুটবলার। প্রত্যেক টূর্ণামেন্টে সাইফ স্পোটিং সিলেট দলের এটা সব সময় একটা চ্যালেন্জ যে, বিদেশিদের বিপক্ষে আমাদের ভালো করতেই হবে দেশের ফুটবল এবং ফুটবলারদের স্বার্থে। আমি একজন সাবেক ফুটবলার ও সংঘটক হিসেবে আমাদের দেশী ফুটবলারদের এই লড়াইয়ে গর্ববোধ করি। স্টাইকার হিসেবে আজ রাসেল জোড়া গোল করেছে।
আমাদের দেশের সর্বোচ্চ লিগের দিকে তাকান দেখবেন দেশের স্টাইকারের কতো সংকট? প্রত্যেক টুর্ণামেন্টে প্রতিটি দলের প্লেয়ার লিষ্ট দেখলেই বুঝতে পারবেন সব দলে বিদেশি স্টাইকার। দেশের সেরা সব স্টাইকার টুর্ণামেন্টে এমন কি লিগেও খেলতে পারেনা বিদেশিদের জন্য! কি ভয়াবহ অবস্হা চিন্তা করেন! এতটা বিদেশি নির্ভর হওয়া দেশের ফুটবলের জন্য কখনো মঙ্গলজনক হতে পারে না। দেশের ফুটবলকে ভাবতে হলে সবার আগে স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে ভাবতে হবে।














